অপ্রতীম কি শুধুই একটি আই ফোনের বলি নাকি সামাজিক অবক্ষয় এবং সামাজিক এবং পারিবারিক সচেতনতার অভাব?
- আফছানা নূর
- প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
-
ছবি: লেখক আফছানা নূর
প্রতিটা ঘটনার পেছনে কোন না কোন কারন থাকে। মুল সত্য ঘটনাগুলা মানুষ কেজানানো উচিত। কিন্ত দু:খ জনক ভাবে আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঘটনার মুলরহস্যের আড়ালেই থেকে যাই। যার কারনে সামাজিক পারিবারিক ব্যাক্তিগত সচেতনাথেকে অনেকটা দূরে সরে যাই।আগে আমরা সচেতন হওয়া উচিত।ঘটনা ঘটে যাওয়ারপর আমরা কান্না কাটি করি, বিচার চাই, মানববন্ধন করি।কিন্ত ঘটনা ঘটার পর করলে কি লাভ? এখন হাজার বিচার চাইলেও কি কিছু হবে? আর বিচার হলে ও খুনি ঠিকই বেঁচে থাকবে মানুষটাতো আর ফিরে আসবেনা। শিশু রামিসার ঘটনায় ও আমরা তাই দেখছি। খুনি কিন্ত আজ ও বেচে আছে।
অপ্রতিম... মাত্র ১৩ বছরের একটি শিশু। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, শুধু একটি আইফোন সেটের জন্য কি এতটা নৃশংসভাবে একটি শিশুকে হত্যা করা সম্ভব?
হতে পারে আমরা এখন পর্যন্ত যা শুনছি, সেটাই পুরো ঘটনা নয়। হতে পারে এর পেছনেআরও কোনো কারণ আছে। আবার এমনও হতে পারে, আইফোনের বিষয়টিই ঘটনারমূল কারণ—কিন্তু সেটা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য তদন্তের ফলাফল আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
আমরা যা দেখি, যা শুনি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা পড়ি—সবকিছু সত্য হওয়াকি জরুরি? কোনো ঘটনা নিয়ে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া কথা আর তদন্তেপ্রমাণিত সত্য এক জিনিস নয়।
অপ্রতিমের মা-বাবার সঙ্গে কারও পূর্বশত্রুতা ছিল কি না, কোনো ব্যক্তিগত বাপারিবারিক বিরোধ ছিল কি না, আইফোনের বিষয়টি আসলে কতটা জড়িত, নাকি এরপেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল—প্রতিটি দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
কারণ একটা ১৩ বছরের শিশুর জীবন শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো আবেগের পাশাপাশি সত্যটাও খুঁজে বের করা।
আমাদের দেশে স্মার্ট ফোন ইউজের ব্যাপারে সরকারিভাবে কোন বিধিনিষেধ নেই। যারকারনে বেশির ভাগ শিশূ কিশোর অপরাধের মুল বিষয়গুলো স্মার্ট ফোন কেন্দ্রিক হয়েথাকে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারে সরকারি ভাবেসচেতনতা ও নীতিমালা রয়েছে।
শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার, সাইবার ঝুঁকি ও মনোযোগের ক্ষতি নিয়েসেখানে সচেতন করা হচ্ছে।
কিন্ত আমাদের দেশে এ ব্যাপারে সরকারি কোন উদ্যোগ আমি কখনই দেখিনি।
বাংলাদেশেও সরকারি উদ্যোগে স্কুল-কলেজ ও গণমাধ্যমে প্রচারণা করে স্মার্টফোন ব্যবহারে কড়া নিষেধাজ্ঞা আসা উচিত। যদি কড়া বিধিনিষেধ আনা হয় তাহলে শিশুকিশোর অপরাধ গুলো অঅনেকাংশেই কমে যাবে।
বেঁচে যাবে অনেক অপ্রতীম।
ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর হাজার বিচার চাইলেও অপ্রতিম আর ফিরে আসবে না। তাইবিচার অবশ্যই চাই, কিন্তু তার সঙ্গে চাই প্রকৃত কারণটা বেরিয়ে আসুক।
যেন আর কোন অপ্রতীম কে হারাতে না হয়।
শুধু শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
গুজব নয়, সত্য চাই।
অনুমান নয়, সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
সামাজিক সচেতনতা চাই।
সর্বপরি অপ্রতিমের জন্য ন্যায়বিচার চাই—এবং চাই, এই ঘটনার প্রতিটি প্রশ্নের সঠিকউত্তর আমরা জানতে পারি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলাউদ্দিন
ঠিকানা: ৩৭/২, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন