দাবী চেয়ারম্যানের
কেয়া গ্রুপ ধ্বংসের নেপথ্যে সাউথইস্ট পূবালী ন্যাশনাল ব্যাংক ও স্ট্যাটার্ন্ড ব্যাংক দায়ী
দ্বিতীয় দফায় ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই
- বিশেষ প্রতিনিধি
- প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
-
গাজীপুরেরকোনাবাড়ির জরুন এলাকায় কেয়াগ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বিতীয় দফায়৭৩৯ জন শ্রমিক ওকর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বর্তমানপরিস্থিতির জন্য চারটি ব্যাংককেদায়ী করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরেকেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বিতীয় দফায়৭৩৯ জন শ্রমিক ওকর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের তথ্য জানতে চেয়েপ্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করাহয়। এসময় চারটি ব্যাংকেরঅসহযোগিতার কথা জানান তিনি। কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান বলেন, ‘কেয়া গ্রুপের সঙ্গেচারটি ব্যাংকের হিসাবের জটিলতা আছে। জটিলতার বিষয়টিবাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো আছে। ব্যাংকগুলোকে জানানোআছে, এটা পাবলিক লিমিটেডকোম্পানি। সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জকেও জানানো আছে। কিন্তু তারা (ব্যাংকগুলো) দূরে থেকে আমাকেছাড়াই হিসাব করছে। আমি চাচ্ছি আমাকেনিয়ে বসে হিসাবটা ঠিকআছে কি-না দেখারজন্য। এটা যদি দেখে, তাহলে সাউথইস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও স্ট্যাটার্ন্ড ব্যাংক—এই চারটি ব্যাংকেরমধ্যে আমার হিসাবে ঝামেলাআছে। আমি বলছি, এইখানেআমার হিসাবে গড়মিল, এই হিসাবের গড়মিলটাদেখলে তাহলে আমার কোনো লোনথাকবে না। এই চারটিব্যাংকে তিন হাজার কোটিটাকার লোন তারা বলছে।এটা হিসাব গড়মিলের কারণে বলছে। ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণেই আজকের এই পরিস্থিতির তৈরিহয়েছে, সমস্যা হচ্ছে।’
তিনিআরও বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলেআমাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে এই ঝামেলাগুলোতৈরি করেছে। ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে কেয়া গ্রুপে সমস্যাতৈরি হচ্ছে। এই ব্যাংকের জটিলতানিরসন করা গেলে আগেরপর্যায়ে ফিরে আসবে, কর্মসংস্থারতৈরি হবে। দেশের অর্থনীতিতেভূমিকা রাখতে পারবে।’
কেয়াগ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক হিসাবটা যদি আমাকে সঠিকভাবেকরে দেয়, তাহলে আমারদৃঢ় বিশ্বাস এই চারটি ব্যাংকেরতিন হাজার কোটি টাকা লোনথাকবে না। কেয়া গ্রুপপূর্বের অবস্থানে ফিরে যাবে।’
তিনিবলেন, ‘অডিটর নিয়ে, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট ফার্ম নিয়ে, অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ নিয়ে আমার সঙ্গেবসতে হবে। বসে আমিকী বলি, আমার কথাশুনতে হবে। কাগজপত্র নিয়েহিসাব করতে হবে। তারাবসে যদি সিদ্ধান্ত নিয়েআমার ওপর চাপিয়ে দেয়, তাহলে তো হবে না।’
কারখানারব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান সেইকরা নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিংজটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতেনা পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রয়োজনেরতুলনায় অতিরিক্ত জনবল থাকায় উৎপাদনও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্তনেওয়া হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছুপদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
এতেআরও বলা হয়, শ্রমআইন ২০০৬ এর ২০ধারা অনুযায়ী কারখানার অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের আজ (২০ অক্টোবর) থেকে ছাঁটাই করাহবে। তাদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে।
এদিকেসকালে কারখানার ফটকে টানিয়ে দেওয়াছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নামেরতালিকা দেখতে কারখানার সামনে ভিড় করেন শ্রমিকরা।এসময় তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখাযায়।
তবেকর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কারখানায় নতুন কর্মী নিয়োগেরপ্রয়োজন হলে শ্রম আইনের২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাইহওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকারদেওয়া হবে। বর্তমানে যাদেরচাকরি বহাল আছে, তারালে-অফের আওতায় থাকবেনএবং আইন অনুযায়ী লে-অফের সুবিধা পাবেন।
গাজীপুরশিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, কেয়া গ্রুপের চারটিপ্রতিষ্ঠানে ৭৩৯ জন কর্মকর্তাও কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলাপরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার প্রধান ফটকে শিল্প পুলিশমোতায়েন করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলাউদ্দিন
ঠিকানা: ৩৭/২, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন