বিগত সময়েও ব্যবসায় ছিল এই চক্র
আ’লীগের পলাতক নেতাদের অর্থায়নে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধের অপচেষ্টা
# ভিসা কিনে বাজার ধ্বংসের চক্রান্ত # সরকারকে ব্যার্থ করতে কর্মসংস্থান রেমিট্যান্স বন্ধের পাঁয়তারা # ফকরুল, রিয়াজ, মোস্তফা ও আকবর গংদের ভারত, দুবাই ও মালয়েশিয়া সফর নিয়ে প্রশ্ন # প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাঁধা
- বিশেষ প্রতিনিধি
- প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
-
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা নেতাদের সঙ্গে যোগসাজস করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বাংলাদেশের কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সি মালিক। অতীতে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিদেশে পাচারকরা অর্থ ব্যবহার করে পুন:রায় কোটি কোটি টাকার ভিসা বাণিজ্য করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। তারা শ্রমবাজারের বিরুদ্ধে মিছিল মিটিং, সমাবেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসুচি পালন করছে। গণমাধ্যমে ভুল তথ্য নিয়ে একের পর এক বিবৃতি ও বক্তব্য দিচ্ছে। এই চক্রেরা মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন হিউম্যান রিসোর্স ডেভলপমেন্ট সেন্টারের (আরএল-৪৫২) ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফকরুল ইসলাম, বায়রার সাবেক সহসভাপতি ও রিয়াজ ওভারসীসের (আরএল-৩০) রিয়াজুল ইসলাম, মাইক্রো এক্সপোর্ট হাউস (আরএল-৪৪৮) মোস্তফা মাহমুদ ও আবকর এন্টার প্রাইজের (আরএল-৩৫০) প্রোফাইটর আকবর হোসেন মঞ্জু। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন বায়রার সাধারণ সদস্যরা।
বায়রার সদস্যরা জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াসরকারের দুই দফা যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি ও তাদের সহযোহী হিসেবে আরও ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বায়রার সাবেক নেতা ফখরুল, রিয়াজ, মোস্তফা ও আকবর গংদের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের নেপথ্যে আওয়ামী লীগপন্থি পুরনো স্বার্থগোষ্ঠীকেপুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র করছে। তাদেরকে অর্থায়ন করছেন লোটাস কামাল, বেনজির আহমদসহ পলাতক আওয়ামী লীগের নেতারা। ইতোমধ্যে এই চক্রের কয়েকজন সদস্য ভারত ও দুবাই গিয়ে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের কালোটাকা বিনিয়োগেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে বিভিনন্ গোয়েন্দা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত সমযে ১৭ বছরে আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে পরিচিত বায়রার কিছু নেতা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। অতীতে ভিসা বাণিজ্য ও বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ওই সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও ডিবি পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলায় করেছে এবং কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে। বাতিল করা হয়েছে তাদের রিক্রুটমেন্ট লাইসেন্স। বর্তমানে নতুন ব্যবস্থায় এরা বাদ পড়ায় ফুঁসে উঠেছেন। তারা পুরোনো ব্যবসায়িক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করছেন। তবে ২৫ লাইসেন্স ও ৩৩৮টি নির্বাচিত এজেন্সির মাধ্যমে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় তাদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে বর্তমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন, প্রচার-প্রচারণা ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সি ও ৩৩৮ সহযোগী এজেন্সির বাইরে আওয়ামী চক্রটি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে বিভিন্ন কোম্পানীর কাছ থেকে অধিক দামে ভিসা কিনতে শুরু করেছে। তারা একদিকে দেশে আন্দোলন করছে অন্য দিকে ভিসা দেওয়ার নাম করে সাধারণত মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বায়রার একাধিক নেতা আলাপকালে বলেন, ফকরুল-রিয়াজ ও আকবর চক্রের সদস্যরা পতিত আওয়ামী লীগের পলাতক কয়েকজন নেতার সঙ্গে ভারতে গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা চক্রটিকে অর্থায়ন করছে। পলাতক আওয়ামী সিন্ডিকেট মালয়েশিয়া থেকে ভিসা কিনে তাদেরকে সরবরাহ করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফকরুল-রিয়াজ চক্রের অন্যতম হোতা হিসাবে কাজ করছেন আকবর এন্টারপ্রাইজের আকবর হোসেন মঞ্জু। তিনি রাজধানীর গুলশানের বেঙ্গল ব্লুবেরি হোটেলে নিয়মিত আসর বসাচ্ছেন। সেখান থেকেই পরিচালিত হয় সরকার বিরোধী সব ষড়যন্ত্র। বায়রার সাবেক একাধিক নেতা বলেন, আকবর, ফকরুল , রিয়াজ গংদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা না নিলে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার নিয়ে ষড়যন্ত্র থামবে না। বেঙ্গল ব্লুবেরিতে গোয়েন্দা নজরদারির অনুরোধও করেছেন বায়রা নেতারা।
এদিকে, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন বায়রার সাবেক নেতার গত ছয় মাসে একাধিকবার ভারত, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বায়রার নেতাদের দাবি, এসব সফরেরসঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের বিশাল যোগসূত্র রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ পন্থি বায়রা নেতাদের একটি অংশ বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের পরামর্শে বর্তমান সরকার ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে শ্রমবাজারে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা চায় না বৈধ পথে শ্রমিক যাক এবং দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাক।
বায়রার নেতা ও সাবেক এমপি আব্দুল গফুর ভূঁইয়া বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ। তাই রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবংকর্মীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনার জরুরী।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেও বায়রা নেতা আবদুল গফুর ভূঁইয়াসহ অন্য নেতারা আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা বলেন আওয়ামী লীগ নেতাদের পাচার করা কালো টাকা দিয়ে শ্রমবাজার অস্থিরতা তৈরী করা হচ্ছে। যার ভুক্তভোগী হবেন সাধারণ শ্রমিকরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফকরুল ইসলাম ও আকবর হোসেন বলেন, তারা শ্রমিক পাঠাতে চান। সেখানে ভিসা কেনা ও বিক্রয়ের সুযোগ সবার রয়েছে। এতে অন্যায় কিছু নেই।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলাউদ্দিন
ঠিকানা: ৩৭/২, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন