মন্ত্রীর জেদে খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
# জিরোকষ্টে দশ হাজার শ্রমিক পাঠানোর জেদ # নিয়োগানুমতি, কর্মী নির্বাচন, বিএমইটি ছাড়পত্র ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা বন্ধ # জিরো কস্ট ও বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী প্রেরণ সমান্তরালে চলতে পারে
- বিশেষ প্রতিনিধি
- প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
-
আরিফুল হক
মালয়েশিয়ায় শুণ্য অভিবাসন ব্যয়ে দশ হাজার শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি সুরাহা করতে না পারায় ঝুলে আছে লাখ লাখ শ্রমিকের ভাগ্য। ইতোমধ্যে ৬ হাজারের বেশি শ্রমিকের কোটা বরাদ্দ হয়েছে। এই বরাদ্দের বিপরীতে কর্মীদের ডিমান্ড লেটার সত্যায়নের জন্য জমা হয়েছে। কিছু ডিমান্ড লেটার সত্যায়ন সম্পন্ন হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত হীনতায় মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এরনেপথ্য কারণ হিসেবে জানা গেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী কিছু নিজস্ব মেডিকেল সেন্টার চান। সেটা এখনো হয়নি। তারপরও তিনি আগে জিরো কস্টে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর গোধরে বসে আছেন। তার এই সিদ্ধান্তের কারনে বাজার উন্মুক্ত হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলনে, লয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশী কর্মী প্রেরণের স্বার্থে উদ্ভুত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের হাত ছাড়া হয়ে যাবে শ্রমবাজারটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ব তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে মালয়েশিয়ার সরকার সেদেশের শ্রমবাজারটি বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য বিগত আগষ্ট মাসেই উন্মুক্ত করে দেয়। এবই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩৫০ জন নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার সরকারের কাছে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগের কোটা বরাদ্দের আবেদন কবে। ইতোমধ্যে ছয় হাজারের বেশি কোটা বরাদ্দ হয়েছে। বরাদ্দকৃত কোটার কর্মীদের ডিম্যান্ড লেটার সত্যায়নের জন্য মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনে আবেদন জমা হয়েছে। ইতোমধ্যে হাইকমিশন থেকে কিছু ডিম্যান্ড লেটার সত্যায়ন করা হয়েছে। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নির্দেশনার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়োগানুমতি, কর্মী নির্বাচন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। ফলে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে স্থগিত হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মন্ত্রী বলছেন, প্রথমে শুন্য অভিবাসন ব্যায়ে দশ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবে। তারপর বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিকরা মালয়েশিয়া যেতে পারবে। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকে এধরনের কোন শর্ত বা নির্দেশনা দেওযা হয়নি। দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনা বা ওয়ার্কিং গ্রুপ সভাতেও এ ধরনের কোন প্রতিশ্রুতি দেওযা হয়নি। একটি বেসরকারি গ্রুপ জিরো কস্টে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আমাদের সরকারকে সহযোগীতার প্রস্তাব দিয়েছে। যার উপর ভিত্তি করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন। যার মৌলিক কোন ভিত্তি নেই। মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, মালয়েশিয়ায় লাখ লাখ অবৈধ কর্মী আছে। তাই কোটা অ্যালোকেশন ও ডিম্যান্ড লেটার যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। অন্যদিকে তিনি মালয়েশিয়ার অনলাইন ভিত্তিক বিক্রুটিং প্লাটফর্ম এর সংশ্লিষ্ট পোর্টালসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করে রেখেছেন এবং এতে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়েছে।
রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার নিয়োগকারীরা কর্মী নিয়োগের জন্য সরকারি খাতে প্রয়োজনীয় ফিস ও লেভি পরিশোধ করে কোটা বরাদ্দ পাচ্ছেন। তারা নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ দূতাবাসে ডিম্যান্ড লেটার জমা করছেন। সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছেন। এমনকি কর্মী নিয়োগের জন্য লেভি পরিশোধের পরও কর্মী না পাওয়ায় সেখানকার নিয়োগকর্তারা সরকারকে বারবার তাগাদা দিচ্ছেন। মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগকারীদেরকে কোন জবাব দিতে না পারায় মালয়েশিয়া সরকারও বিব্রতবোধ করছে। এই বেসামাল পরিস্থিতিতি মালয়েশিয়ার সরকারের সৃষ্ট নয় বরং বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবর্জিত সিদ্ধান্তের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র মতে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এলোকেশন প্রাপ্ত কোটার কর্মীদের জন্য হাই কমিশনে জমাকৃত ডিম্যান্ড লেটার সত্যায়ন, মন্ত্রণালয়ের নিয়োগানুমতি, কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিএমইটির ছাড়পত্র দিয়ে কোটা প্রাপ্ত কর্মীদেরকে জরুরী ভিত্তিতে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে জিরো কস্টে পাঠানোর বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি যৌথউদ্যোগে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। জিরো কস্ট ও বেসরকারি খাত কর্মী প্রেরণের প্রক্রিয়াটি সমান্তরালভাবে চালু রাখতে হবে। অন্যথায় মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের চাপের কারণে মালয়েশিয়ার সরকার বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য কোটা বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়ে অন্য দেশের কর্মীদের জন্য কোটা বরাদ্দ দিতে বাধ্য হবে। এতে দীর্ঘস্থায়ী ভাবে সুযোগ বঞ্চিত হবে বাংলাদেশের শ্রমবাজার।
এবিষয়ে বায়রার একাধিক নেতা বলেছেন, বরাদ্দকৃত কোটার কর্মীদেরকে মালয়েশিয়ায় প্রেরণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরী। নতুবা আমরা কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স থেকে স্থায়ীভাবে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, আমরা আগে চাই রাষ্ট্রীয় সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রথমে জিরো কস্টে দশ হাজার শ্রমিক যাবে তারপর বেসরকারি রিক্রুটিং আজেন্সি মালিকরা শ্রমিক পাঠাবে। মেডিকেল সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জটিলতার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলাউদ্দিন
ঠিকানা: ৩৭/২, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন