রাজশাহীতে আমির হামজার মাহফিলে বাঁধা
- ডেস্ক রিপোর্ট
- প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
-
আমির হামজা এমপি
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজারঅংশ নেওয়ার কথা থাকা তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। পুলিশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন না পাওয়ায় অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি বলেজানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরে মাহফিলের আয়োজন বাতিল করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আয়োজক সংগঠন মানবকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে বিকেল থেকে এই তাফসিরমাহফিল শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশ পাওয়ার পরআয়োজকরা প্যান্ডেল গুটিয়ে নেন এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের আসার জন্য বারণ করেদেন।
‘মানব কল্যাণ পরিষদ’ নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজমাঠে এই তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রেলবাজারদারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমানমাদানী সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ঘোষণাকরা হয়েছিল রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতেইসলামির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানের। এছাড়া প্রধানআলোচক হিসেবে পোস্টার ও ব্যানারে নাম ছিল সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতিআমির হামজা এমপির, যিনি গোদাগাড়ীর এই মাহফিলে উপস্থিত থাকতে সম্মতিওদিয়েছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহকেও মাহফিলে অতিথিকরা হয়েছিল।
গত ১৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানারভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বরাবর মাহফিলের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল।গত শনিবার সকালে আয়োজকরা অনুমতির বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গেলেজটিলতা সামনে আসে। আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতিইসমাইল হক জানান, শনিবার সকালে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনিজানান যে মাহফিলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করাহয়েছে এবং পুলিশ প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত তিনি অনুমতি দিতে পারবেন না। এমনপরিস্থিতিতে মাহফিল হবে না ধরে নিয়ে অতিথিদের ফোন করে ক্ষমা চাওয়া হয় এবংপ্যান্ডেল গুটিয়ে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া এত বড় জনসমাগমের অনুমতি দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য লেখার পর প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কিছুবলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অররশিদ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং উপজেলা বা জেলা প্রশাসন থেকেপুলিশের কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াহবে।
উল্লেখ্য, মাহফিলকে কেন্দ্র করে গোদাগাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপকপ্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন আয়োজকরা এবং বড় প্যান্ডেল তৈরির কাজও চলছিল, তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় তাফসির মাহফিলটি স্থগিত করতেবাধ্য হয় আয়োজক কমিটি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলাউদ্দিন
ঠিকানা: ৩৭/২, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন