রক্তরোগ ক্যানসার লিম্ফোমা
- ডা. নিশাত মেহজাবিন
- প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
-
রোগ নির্ণয়ের প্রতিবন্ধকতা ও চিকিৎসার চ্যালেঞ্জ: লিম্ফোমা একটি হেমাটোলজিক্যাল ম্যালিগন্যান্সি অর্থাৎ রক্ত ক্যানসার। আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধকারী ব্যবস্থা লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমে সাধারণত এ ক্যানসারটি হয়ে থাকে। শ্বেত রক্তকণিকার একটি উপাদান লিম্ফোসাইটের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধিই এ রোগের কারণ। সম্প্রতি এ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।
লিম্ফোমা সাধারণত Hodgkin Lymphoma এবং Non Hodgkin lymphoma, এ দুই ধরনের হয়ে থাকে। তবে, এদের সাব গ্রুপ আছে অনেক। বিভিন্ন মলিকুলার উপায়ে সে সাব-ডিভিশন আইডেন্টিফাই করা হয় এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
উপসর্গ: গলা, ঘাড়, বোগল অথবা কুঁচকিতে অথবা যে কোনো স্থানে গোটা হওয়া বা ফুলে যাওয়া। জ্বর, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, ওজন কমে যাওয়া, মাত্রাতিরিক্ত দুর্বলতার পাশাপাশি শরীরের যে স্থানে আক্রান্ত হয়েছে সে-সংক্রান্ত যে কোনো জটিলতা নিয়ে রোগী আসতে পারে।
পরীক্ষা: বায়োপসি থেকে হিস্টোপ্যাথলজি, ইম্যুনোহিস্টোকেমিস্ট্রি, ফ্লোসাইটোমেট্রি, সাইটোজেনেটিক্স ও অন্যান্য মলিকুলার পরীক্ষা করা যেতে পারে।
স্টেজিং: সিটি স্ক্যান, বোন ম্যারো মরফোলজি পরীক্ষা, পি ই টি স্ক্যান করা লাগতে পারে।
সাধারণত সেল লিনিয়েজ দেখে, সঠিক সাব টাইপ নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা দিতে হয়। রোগের প্রোগন্সটিক ফ্যাক্টর অর্থাৎ চিকিৎসার ফল কেমন হতে পারে অথবা চিকিৎসার মাত্রাও আমরা মলিকুলার পরীক্ষা থেকে নির্ণয় করে থাকি।
চিকিৎসা: কেমোথেরাপি, ইম্যুনোথেরাপি, টারগেটেড থেরাপি, রেডিওথেরাপি, অ্যান্টিবডি ড্রাগ কনজুগেট, স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টাশান, CAR T সেল থেরাপি প্রভৃতি লাগতে পারে।
আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা: আরগ্য বেশ কিছু ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে, যেমন: সাবটাইপ, স্টেজ, বয়স, পুষ্টিহীনতা, মলিকুলার ডায়াগনোসিস অনুকূলে কি না, চিকিৎসায় রেসপন্স ইত্যাদি।
এতসব বিষয়ের কারণেই লিম্ফোমা রোগটির নির্ণয় ও চিকিৎসা বেশ ডাইভার্স এবং এর আরোগ্য লাভের সম্ভাবনাও একজনের থেকে অন্যজনেরটা আলাদা। অন্যকিছু অসুখেও যেমন, সাধারণ ইনফেকশান বা যক্ষ্মা টাইপ কিছু অসুখে কিছুটা একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সঙ্গে মলিকুলার পরীক্ষাগুলোও খুব সেনসিটিভ হওয়ার কারণে এ রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রায়ই প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। আর দেরিতে রোগ নির্ণয় ও যথাযথ চিকিৎসা না হলে অনেক সময় আরোগ্য লাভও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। তাই লিম্ফোমা শনাক্ত হলে অথবা সন্দেহ হলো দ্রুত হেমাটোলজিস্টের শরণাপন্ন হন। সঠিক রোগ নির্ণয় করুন। যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করুন। প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব লিম্ফোমা সচেতনতা দিবস পালিত হয়। প্রত্যাশা থাকবে, সবাই এ ব্যাপারে সচেতন হবেন।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, হেমাটোলজি বিভাগ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলাউদ্দিন
ঠিকানা: ৩৭/২, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন