আবারও দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সিজেপির
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
-
সংগৃহীত
দিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না হলে আবারও ভারতজুড়ে আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আদেশকে ব্যবহার করে সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো বহাল রাখতে এবং তাদের হয়রানি করতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগসংক্রান্ত একাধিক আবেদনের শুনানি করে। আদালত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই এবং যারা আটক রয়েছেন, তাদের মুক্তির নির্দেশও দেওয়া হয়।
তবে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, দিল্লি সরকার (এনসিটি) ও অন্যান্য রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলোর তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এ সুরক্ষা পূর্বে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
আদালতের এ নির্দেশের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, এই আদেশ গোটা দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।
তার দাবি, গত ২৫ জুলাই সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কাউকে হয়রানি না করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশ তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই আশ্বাসের ভিত্তিতেই সিজেপি দেশব্যাপী আন্দোলন স্থগিত করেছিল।
সৌরভ দাসের অভিযোগ, এখন তাদের আশঙ্কা হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলো সুপ্রিম কোর্টের এ আদেশকে ভিত্তি করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো বহাল রাখবে এবং তাদের হয়রানি করবে।
তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই তাদের আশঙ্কা ছিল আদালতকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমন করা হতে পারে। সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জানার পরও আদালতে সরকারের আইনজীবীরা এ বিষয়ে কোনো আপত্তি তোলেননি, যা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিজেপির দাবি, কেন্দ্র ও বিজেপি/এনডিএ-শাসিত রাজ্য সরকার চাইলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করতে পারে এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তাও দিতে পারে।
সরকারকে দেওয়া সময়সীমার কথা স্মরণ করিয়ে সৌরভ দাস বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় শেষ হয়ে এসেছে। তিনি আবারও সব মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে সিজেপির সামনে আবারও দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। তার ভাষায়, "যে সরকার নিজের দেওয়া কথা রাখে না, তারা তরুণদের নীরব থাকার আশা করতে পারে না। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে ভারতের রাজপথ আবারও তরুণদের কণ্ঠে মুখর হবে।"
এর আগে সোমবার সিজেপির আরেক মুখপাত্র অশুতোষ রানকা অভিযোগ করেন, সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং শত শত আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা দাবি করেন। অন্যথায় তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে লাগাতার আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি ছিল তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
২০ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘সংসদ চলো মার্চ’ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। ওই ঘটনায় শতাধিক পুলিশ সদস্যও আহত হন।
পরে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকের পর গত শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের আশ্বাস পাওয়ার পরই সিজেপি আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলাউদ্দিন আরিফ
ঠিকানা: প্রিতম-জামান টাওয়ার, ৩য় তলা, স্যুট নং: ৪০১/এ, ৩৭/২ বীর প্রতীক গাজী দস্তগীর রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন