ইসরাইলের কারাগারে কুকুর লেলিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ধর্ষণ!
তেহরান টাইমসের প্রতিবেদন
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর মারধর ও অনিদ্রার মতো নির্যাতনের খবরে বিশ্ববাসী অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। তবে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকাশিত নতুন সাক্ষ্যগুলো দখলদার ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর আরও ভয়াবহ ও বিকৃত এক বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
নেগেভ মরুভূমির কুখ্যাত ‘সদে তেইমান’সহ বিভিন্ন ইসরাইলি কারাগার ও বন্দিশিবির এখন ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত নির্যাতনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্যে উঠে এসেছে, বন্দিদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সত্ত্বা ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে সেখানে ভয়াবহ নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।
ইসরাইলের কঠোর সামরিক সেন্সরশিপ ভেদ করে সম্প্রতি এসব তথ্য সামনে এসেছে।
গত ১৮ এপ্রিল ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইসরাইলের সাবেক সেনা সদস্য শাহেল বেন-এফ্রাইমও এ নির্যাতনের শিউরে ওঠা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সদে তেইমান কেন্দ্রের দুই প্রহরীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তিনি জানান, বন্দিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের বিষয়টি এখন অনেকাংশে ‘ওপেন সিক্রেট’। একজন প্রহরী এমন কিছু দেখেছেন যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন।
বি’সেলেম, ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর এবং প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস-এর মতো সংস্থার তদন্তেও একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে। তাদের মতে, এসব কেন্দ্র ক্রমেই জিজ্ঞাসাবাদ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এক ধরনের ‘নির্যাতন শিবিরে’ রূপ নিয়েছে, যেখানে মূল লক্ষ্য বন্দিদের মানসিকভাবে ভেঙে ফেলা।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
ইসরাইলি কারাগার থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন ব্যক্তি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী এক সাবেক বন্দি (ছদ্মনাম ‘এ.এ.’) জানান, তাকে সিসিটিভিবিহীন করিডোরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং উপস্থিত সৈন্যরা তা দেখে হাসাহাসি করছিল।
৪৩ বছর বয়সী ওয়াজদি নামে আরেক বন্দি জানান, তাকে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালানো হয় এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিও করা হয়েছিল।
এ ধরনের আরও কিছু ঘটনার বর্ণনায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দায়মুক্তির অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনায় কার্যকর জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি গুরুতর ঘটনায় কয়েকজন সৈন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটের এক সদস্য বিতর্কিত মন্তব্য করে নির্যাতনকে বৈধতা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের নির্যাতন ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার একটি ‘কাঠামোগত অংশ’।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক মহল মাঝে মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে বড় শক্তিগুলোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, এসব অভিযোগ শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নয়—বরং বিশ্ব বিবেকের জন্যও একটি কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলাউদ্দিন আরিফ
ঠিকানা: প্রিতম-জামান টাওয়ার, ৩য় তলা, স্যুট নং: ৪০১/এ, ৩৭/২ বীর প্রতীক গাজী দস্তগীর রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন