রুমমেটদের আপত্তিকর ছবি প্রেমিককে পাঠানোর অভিযোগে ইবি ছাত্রী বহিষ্কার
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
-
সিসিএন বিজি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের বান্ধবীদের গোপন ও আপত্তিকর ছবি প্রেমিককে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত হলেন- অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ বর্ষের শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশী।
বৃহস্পতিবার ( ৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার তদন্তে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে প্রভোস্ট কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্ত ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার ও তার দুটি মুঠোফোন জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, অভিযুক্ত ঐশীর আবিদ নামের এক লন্ডন প্রবাসীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘদিন রুমমেট ও বান্ধবীদের আপত্তিকর ছবি তুলে প্রেমিককে
পাঠাতেন। সম্প্রতি ওই প্রেমিকের সাথে সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে কিছু ছবি ভুক্তভোগী একাংশের কাছে পাঠান।এ পর্যন্ত অন্তত ২০/২৫ শিক্ষার্থীর ছবি আবিদের কাছে পাঠাতে পারে। এর প্রমাণ হিসেবে কিছু স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে রেখেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তাদের ব্যক্তিগত ছবি যত স্থানে ছড়ানো হয়েছে সেগুলো রিমুভ করতে হবে ও আমাদের নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।
এ বিষয়ে আবিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত ছাত্রীর সব অপকর্ম আমাদের কাছে তুলে ধরে।এই পর্যন্ত ১০ জনের ছবি শনাক্ত করা গেছে।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন," হলের ভিতরে আমরা নিজেদের স্বাচ্ছন্দমতো থাকি যেহেতু হলের ভিতর বাইরের কেউ বা কোনো ছেলের একসে নেই।এই মেয়ে তার রুমমেটদের ছবি যেমন কেউ শুয়ে আছে, বসে আছে, কেউ হয়তো টিশার্ট পড়ে আছে, কেউ ওড়না ছাড়া আছে - এই টাইপের ছবিগুলো তুলে তুলে তার বয়ফ্রেন্ডকে দিছে। শুধু তাই না, হলের অন্যান্য মেয়েদের অনেক বাজে বাজে ছবি, ঘুমন্ত অবস্থার ছবি তুলে তুলে তার একেকজন বয়ফ্রেন্ডকে এভাবে পাঠাইছে। এইটা কোনভাবেই বরদাশত করা যায় না। কেও কখনোই এভাবে মেয়েদের ছবি তুলতে পারে না"।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রী গণমাধ্যমকে জানায়, " বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে বলা হচ্ছে। রুমমেটদের গোপন ছবি আবিদকে দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করছি।আবেগের বশবর্তী হয়ে এমনটা করেছি। এর জন্য আমাকে হল থেকে শাস্তি কিংবা বহিষ্কার করা হলে মেনে নিত বাধ্য থাকব।তবে আমার একাডেমিক অধ্যয়নকে যেন বাধাগ্রস্ত করা না হয়"।
এদিকে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হলেন জুলাই-৩৬ হলের আবাসিক শিক্ষক ও বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. খন্দকার আরিফা আক্তার, সদস্য সচিব দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মুহা: কামরুজ্জামান ও সদস্য হলেন সহকারী প্রক্টর ড. খাইরুল ইসলাম।
এছাড়া ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে হলের অন্যান্য আবাসিক ছাত্রীদের কাছ থেকে লিখিত তথ্য ও অভিযোগ আহ্বানে নোটিশ দিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে অফিস চলাকালীন প্রভোস্ট বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দেয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীদের নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে জুলাই-৩৬ হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও বিশৃঙ্খলা এড়াতেই জরুরি সভা ডেকে উক্ত সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলাউদ্দিন আরিফ
ঠিকানা: প্রিতম-জামান টাওয়ার, ৩য় তলা, স্যুট নং: ৪০১/এ, ৩৭/২ বীর প্রতীক গাজী দস্তগীর রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন