ইবিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
যথাযথ মর্যাদায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন এবং আনন্দের প্রতীক হিসেবে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
পরে একই স্থান থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসি মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় ছাত্রনেতা, শিক্ষক ও অতিথিরা বক্তব্য দেন।
আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থী তানজিল হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। সার্টিফিকেট উত্তোলনে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ৩৬ জুলাইয়ের পরে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশে দাঁড়িয়েও হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জন্য বৈষম্যমূলক ফিস্টের ব্যবস্থা করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি বর্জন করছি এবং আগামী দিনে যেন এ ধরনের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, সেই আহ্বান জানাচ্ছি।”
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মূলোৎপাটন করতে চেয়েছি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে; এখনো ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রশাসনের কাছে আহ্বান থাকবে, দ্রুত অপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করা হোক। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রশাসন জুলাইয়ের পক্ষের, দেশের পক্ষের।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানে আমরা যখন আন্দোলন করেছিলাম, তখন আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। আমরা যদি সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে না পারি এবং মতপার্থক্য ভুলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ না হই, তাহলে পেছন থেকে আবারও ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আমরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছি, ঠিক সেভাবেই নতুন বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব আশরাফ উদ্দীন খান আজহারী দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং নতুন বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলাউদ্দিন আরিফ
ঠিকানা: প্রিতম-জামান টাওয়ার, ৩য় তলা, স্যুট নং: ৪০১/এ, ৩৭/২ বীর প্রতীক গাজী দস্তগীর রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন