ব্যাটারির শক্তিতে উড়ল বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
-
সংগৃহীত
ব্যাটারির শক্তিতে চলা বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ প্রথমবারের মতো আকাশে উড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পরীক্ষামূলক এই উড্ডয়নের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক বিমান চলাচলের প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখিয়েছে সুইডিশ প্রতিষ্ঠান হার্ট অ্যারোস্পেস।
প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ‘এক্স১’ নামের উড়োজাহাজটি কোনো জ্বালানি ব্যবহার না করে শুধু ব্যাটারির শক্তিতে ২৭ মিনিট আকাশে ছিল। পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে উড়োজাহাজটি সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ওঠে।
তবে এক্স১ যাত্রী পরিবহনের জন্য তৈরি করা হয়নি। হার্ট অ্যারোস্পেসের ভবিষ্যৎ হাইব্রিড আঞ্চলিক উড়োজাহাজের প্রযুক্তি ও ধারণা পরীক্ষা করাই এর মূল লক্ষ্য। পরীক্ষাটি দেখিয়েছে, ছোট বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের কাছাকাছি আকারের বিমানে ব্যাটারিচালিত উড্ডয়ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব।
এক্স১-এর ডানার বিস্তার ১০৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৭৬ ফুট। উড়োজাহাজটির ওজন ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি। এতে ৩০টি আসনের ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্কের একটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর এটি প্রায় ২৭ মিনিট আকাশে অবস্থান করে। পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে উড়োজাহাজটিতে ছিলেন শুধু একজন পাইলট।
হার্ট অ্যারোস্পেসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডার্স ফর্সলুন্ড বলেন, এই উড্ডয়নের মাধ্যমে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের কাছাকাছি আকারের একটি বিমানে বৈদ্যুতিক উড্ডয়ন ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়েছে।
তিনি জানান, এক্স১ কখনো যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হবে না। এটি মূলত একটি ‘উড়ন্ত পরীক্ষাগার’। ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক মোটর ও উড্ডয়ন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ তৈরিতে কাজে লাগানো হবে।
হার্ট অ্যারোস্পেসের প্রধান বাণিজ্যিক প্রকল্প হলো ‘ইএস-৩০’। এটি ৩০ আসনের একটি হাইব্রিড আঞ্চলিক উড়োজাহাজ। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের দিকে ইএস-৩০ বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরু করতে পারে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, এয়ার কানাডা ও জেএসএক্সসহ কয়েকটি বিমান সংস্থা উড়োজাহাজটির বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।
হাইব্রিড উড়োজাহাজ তৈরির অন্যতম লক্ষ্য কার্বন নিঃসরণ কমানো। পাশাপাশি জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর সম্ভাবনাও বিমান সংস্থাগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
হার্ট অ্যারোস্পেসের হিসাব অনুযায়ী, একই আকারের প্রচলিত আঞ্চলিক উড়োজাহাজের তুলনায় ইএস-৩০ পরিচালনার খরচ সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এক্স১-এর একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ ডলার।
তবে এই হিসাব দিয়ে উড়োজাহাজটির প্রকৃত পরিচালন ব্যয় নির্ধারণ করা যাবে না। কারণ এর মধ্যে পাইলট ও অন্যান্য কর্মীদের বেতন, বিমানবন্দর ফি, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমা এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো খরচ অন্তর্ভুক্ত নেই।
তাই হাইব্রিড-ইলেকট্রিক উড়োজাহাজ ব্যবহার করে বিমান সংস্থাগুলো বাস্তবে কতটা অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একইভাবে পরিচালন ব্যয় কমার সুফল যাত্রীদের টিকিটের দাম কমাতে কতটা কাজে লাগবে, সেটিও নির্ভর করবে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সাফল্যের ওপর।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলাউদ্দিন আরিফ
ঠিকানা: প্রিতম-জামান টাওয়ার, ৩য় তলা, স্যুট নং: ৪০১/এ, ৩৭/২ বীর প্রতীক গাজী দস্তগীর রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন