৬ আগস্ট ২০২৪: নেতৃত্বশূন্য বাংলাদেশে শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
-
সংগৃহীত
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নেতৃত্বশূন্য বাংলাদেশে ছিল উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার অপেক্ষা। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঘটনাপ্রবাহে দিনটি হয়ে ওঠে দেশের ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিন।
সেদিন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। বঙ্গভবন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই রাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বৈঠকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি সম্ভাব্য উপদেষ্টাদের একটি প্রাথমিক তালিকাও উপস্থাপন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তখন ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থানরত ড. ইউনূস দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। জানানো হয়, দেশে ফিরেই তিনি নতুন সরকারের নেতৃত্বে শপথ নেবেন।
এদিনই নির্বাহী আদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় আটক ব্যক্তিদের মুক্তির প্রক্রিয়াও শুরু হয়। আদালত বিএনপি ও জামায়াতের এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীর জামিন মঞ্জুর করেন। মুক্তি পান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ আরও অনেকে। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তাকে স্বাগত জানাতে কারাগারের সামনে জড়ো হন হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক।
অন্যদিকে, সরকারি ছুটি সংক্ষিপ্ত করে মঙ্গলবার থেকেই খুলে দেওয়া হয় সরকারি অফিস। সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি থাকলেও মন্ত্রিপরিষদ ও সচিব পর্যায়ের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা অনুপস্থিত ছিলেন। সচিবালয়ের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে সেনাবাহিনী। একই সময়ে দীর্ঘদিন পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা সচিবালয়ে জড়ো হয়ে নতুন সরকারের কাছে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দেশত্যাগের চেষ্টা করার সময় বিমানবন্দরে আটক হন সদ্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একই দিন পরিবারসহ ভারতে যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে আটকে দেওয়া হয় সাংবাদিক শ্যামল দত্তকে।
এদিন সেনাবাহিনীতেও বড় ধরনের রদবদল আনা হয়। মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে সংবাদ সম্মেলন করে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা ছাত্রদের প্রস্তাব অনুযায়ী দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দাবি জানান।
এদিকে, গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ছিল সাধারণ মানুষের ভিড়। ৫ আগস্টের সহিংসতার চিহ্ন তখনও স্পষ্ট থাকলেও এসব স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করে সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার আহ্বান জানান সাধারণ মানুষ।
রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় তখনও পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল সীমিত। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর অনেক থানাই কার্যত জনবলশূন্য হয়ে পড়ে। ট্রাফিক পুলিশের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে জনজীবন, আর সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা ছিল, দেশে যেন দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
এদিন নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এসে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনতিবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, তা না হলে দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুর বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব কর্মকাণ্ড আন্দোলনের অংশ নয়। এর আগে সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। লন্ডন থেকে অনলাইনে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ছাত্র-জনতাকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলাউদ্দিন আরিফ
ঠিকানা: প্রিতম-জামান টাওয়ার, ৩য় তলা, স্যুট নং: ৪০১/এ, ৩৭/২ বীর প্রতীক গাজী দস্তগীর রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন