জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস আজ: রাষ্ট্রীয় আয়োজনে স্মরণ
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৬ এএম
-
সংগৃহীত
আজ ৫ আগস্ট, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী হিসেবে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের এ দিনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন, শহীদ পরিবারের সংবর্ধনাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
জুলাই আন্দোলনকে বিভিন্ন মহল বিভিন্ন নামে অভিহিত করে থাকে। কেউ একে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’, কেউ ‘বর্ষা বিপ্লব’, আবার কেউ ‘দুনিয়া কাঁপানো জুলাই বিপ্লব’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের দুই বছর পূর্তিতে আলোচনায় উঠে এসেছে আন্দোলনের ঘোষিত লক্ষ্য ও প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই প্রশ্নও।
দিবসটি উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ সময়ের শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। তিনি জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কখনও স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের মতোই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানোদের অবদানও জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে আন্দোলনে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এখনও বেদনা ও প্রত্যাশা বিদ্যমান। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এত মানুষের আত্মত্যাগ, তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্র কতটা এগোতে পেরেছে।
মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলার ঘটনা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী। তিনি সবাইকে নৈতিক অবস্থান থেকে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণে বৈষম্য, শোষণ, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন। বেলা ১১টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন রয়েছে।
এদিন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘরগুলো জনসাধারণের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হবে। সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজেরও আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের জনপ্রিয় কয়েকটি ব্যান্ড ও একক শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজধানীর পল্টনে সমাবেশের আয়োজন করেছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বিকেলে তোপখানা সড়কে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। আগামী ৭ আগস্ট সিপিবির উদ্যোগেও পৃথক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলাউদ্দিন আরিফ
ঠিকানা: প্রিতম-জামান টাওয়ার, ৩য় তলা, স্যুট নং: ৪০১/এ, ৩৭/২ বীর প্রতীক গাজী দস্তগীর রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন