৪ আগস্ট: ‘মার্চ টু ঢাকা’র ঘোষণায় বদলে যায় আন্দোলনের গতিপথ
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
-
সংগৃহীত
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, আন্দোলনকারীদের ভাষায় ‘৩৫ জুলাই’, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত। এদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি এক দিন এগিয়ে এনে ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্ট পালনের ঘোষণা দেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তির পর দেওয়া এই ঘোষণা আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়। একই সঙ্গে কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বিএনপি।
অন্যদিকে, সারা দেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি, হামলা ও দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং হাসপাতালগুলো আহতদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে ওঠে। একই দিনে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনও আদালত খারিজ করে দেন।
গণঅভ্যুত্থানের ঠিক এক দিন আগে দেশের পরিস্থিতি ক্রমেই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। ইন্টারনেট শাটডাউন, কারফিউ এবং প্রাণঘাতী গুলিও ছাত্র-জনতার রাজপথে নামা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ওঠে, সরকার কি আসন্ন পরিবর্তনের আভাস পাচ্ছিল? যদিও এর সুস্পষ্ট উত্তর মেলেনি, তবে সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ সেই ইঙ্গিতই বহন করছিল।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংঘর্ষের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পিছু হটতে দেখা যায়। বিশেষ করে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে দীর্ঘ সংঘর্ষ শেষে আন্দোলনকারীদের অনুকূলে সেনাবাহিনীর অবস্থান এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সরে যাওয়ার দৃশ্য আন্দোলনের পক্ষে বড় মনস্তাত্ত্বিক মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়।
একই দিনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।
দেশব্যাপী প্রাণহানির প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে রাজপথে নামেন গণমাধ্যমকর্মীরাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা জোরদারে নিরাপত্তাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের মাঠে নামার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। এর মধ্যেই খামারবাড়িসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিছিলও দেখা যায়।
শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, উত্তরা ও আফতাবনগরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা সংঘর্ষের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। একই সঙ্গে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে আসেন।
চলমান সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় জাতিসংঘের উদ্যোগে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
৪ আগস্ট পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষের কাছেই পরদিন শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সম্ভাবনা ছিল অকল্পনীয়। তবে সেদিনের দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছিল, বাংলাদেশ একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। আর ঠিক পরদিন, ৫ আগস্ট, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলাউদ্দিন আরিফ
ঠিকানা: প্রিতম-জামান টাওয়ার, ৩য় তলা, স্যুট নং: ৪০১/এ, ৩৭/২ বীর প্রতীক গাজী দস্তগীর রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন