৩২ জুলাইয়ের আন্দোলন: জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ, মুক্তি পান ছয় সমন্বয়ক
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৮ এএম
-
সংগৃহীত
২০২৪ সালের ১ আগস্ট। ক্যালেন্ডারে দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম দিন হলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে এটি পরিচিত হয়ে ওঠে ‘৩২ জুলাই’ নামে। আল্টিমেটাম, মৌন মিছিল, দেয়াল লিখন ও গণপ্রতিবাদে সেদিন উত্তাল ছিল সারাদেশ। আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ধরে শিক্ষার্থীরা ১ আগস্টকে ‘৩২ জুলাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা পরবর্তীতে ‘৩৬ জুলাই’ পর্যন্ত গড়ায়।
সেদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের দেয়াল ভরে ওঠে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আঁকা গ্রাফিতি, প্রতিবাদী চিত্রকর্ম ও স্লোগানে। রাজশাহী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ছাত্র-শিক্ষকরা পুলিশি হামলার শিকার হন। অনেককে আটকও করা হয়।
একই দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহযোগিতার অভিযোগ এনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এর ফলে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ হারায় দল দুটি। সে সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ঘোষণা দেন, জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
দিনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছয় সমন্বয়কের মুক্তি। জনরোষ ও আন্দোলনের চাপের মুখে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয় থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে আন্দোলনকারীরা শুধু সমন্বয়কদের নয়, সারা দেশে আটক সব শিক্ষার্থীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
এই দাবিতে নাগরিক সমাজ মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। একই সঙ্গে নিপীড়ণবিরোধী শিক্ষক সমাজ সাধারণ ছাত্র-জনতার হত্যাকাণ্ডের বিচার জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে করার দাবি জানায়। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আয়োজিত বিক্ষোভ ও সমাবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গণগ্রেফতার বন্ধ এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান জানান।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং গণগ্রেফতার বন্ধের দাবিতে সেদিন রাজপথে নামেন বিভিন্ন অঙ্গনের শিল্পীরাও। পাশাপাশি আহত আন্দোলনকারীদের খোঁজ নিতে শিল্পী সমাজের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
এদিকে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে প্রাণহানির অভিযোগ অস্বীকার করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি দাবি করেন, ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালিয়েছে, এমন তথ্য সঠিক নয়। বরং তার অভিযোগ ছিল, বিএনপি-জামায়াত তারেক রহমানের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলি চালিয়েছে।
সরকারের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধেরও সমালোচনা করে দলটি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের ক্ষোভ আড়াল করতে এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান।
এদিকে, সেদিনই কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ প্রকাশ না করেই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় হারুন অর রশিদকে। জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলাউদ্দিন আরিফ
ঠিকানা: প্রিতম-জামান টাওয়ার, ৩য় তলা, স্যুট নং: ৪০১/এ, ৩৭/২ বীর প্রতীক গাজী দস্তগীর রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন