শতকোটি টাকার চিলহাটি স্টেশন ভবন এখন ধূসর ধ্বংসস্তূপ: অবকাঠামো আছে, চালু নেই বাণিজ্য
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
-
সংগৃহীত
নীলফামারীর প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলহাটি সীমান্তে তৈরি দৃষ্টিনন্দন আধুনিক রেলস্টেশনটি আজ নীরবতার চাদরে ঢাকা। যে ভবনে মুখরিত হওয়ার কথা ছিল আন্তর্জাতিক যাত্রী ও সীমান্ত বাণিজ্যের হাঁকডাক, শতকোটি টাকার সেই অবকাঠামোর ভেতর এখন কেবলই ধুলা আর মরিচার আস্তরণ।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চিলহাটি স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে ভারতের সাথে সরাসরি ট্রেন ও পণ্য পরিবহন চালু করতে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ৩ তলা বিশিষ্ট এই অত্যাধুনিক স্টেশন ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো। তবে ২০২৪ সালে সাময়িক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন থমকে যাওয়ার পর, ২০২৫ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার অবকাঠামোগত ঘাটতির দোহাই দিয়ে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সীমান্তবন্দরটির সব কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে ভেস্তে গেছে শতকোটি টাকার বিনিয়োগ ও স্থানীয়দের স্বপ্ন।
ধূলায় মলিন আসবাব: ভবনের ভেতরের ব্র্যান্ড নিউ চেয়ার-টেবিল, স্টিলের ফার্নিচার বছরের পর বছর প্যাকেটবন্দী অবস্থায় ধুলো জমছে। সিলিং ফ্যানগুলো রয়েছে অচল হয়ে।
ভবনের দ্বিতীয় তলায় কাস্টমস ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত নির্দিষ্ট কক্ষগুলো এবং তৃতীয় তলার আধুনিক রেস্তোরাঁ চত্বরটি এখন পুরোটাই ফাঁকা।
তালাবদ্ধ রেস্টহাউস: ভিআইপি যাত্রীদের সাময়িক অবস্থানের জন্য নির্মিত আন্তর্জাতিক মানের দোতলা রেস্টহাউসটিতে ঝুলছে তালা।
ভারত সীমান্ত পর্যন্ত প্রসারিত যে লাইন ধরে ট্রেনের হুইসেল বাজবার কথা ছিল, ব্যবহার না থাকায় সেই চকচকে রেললাইনে এখন ঘন মরিচা ধরেছে। এছাড়া বিশাল ওভারব্রিজ, যাত্রীছাউনি ও গার্ডরুমগুলোও কোনো কাজে আসছে না।
ক্ষুব্ধ ও হতাশ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা
স্থলবন্দরটি সচল হওয়ার পর উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক গতিপথ বদলে যাওয়ার আশা জাগলেও তা এখন সম্পূর্ণ নিভে গেছে। বন্দর চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখে স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। বন্দর বন্ধের সিদ্ধান্তে তারা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
সরকারি মেগা প্রজেক্টের নামে বিশাল অঙ্কের টাকার এমন অপচয় ও পরিকল্পনাগত অদূরদর্শিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ এভাবে পরিত্যক্ত না রেখে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে অবকাঠামোটি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলাউদ্দিন আরিফ
ঠিকানা: প্রিতম-জামান টাওয়ার, ৩য় তলা, স্যুট নং: ৪০১/এ, ৩৭/২ বীর প্রতীক গাজী দস্তগীর রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন