ফেনীতে এইচআইভি ও এইডস নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
ভারত সীমান্তবর্তী জেলা ফেনীতে এইচআইভি ও এইডস নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত এলাকা হওয়ায় মানুষের চলাচল বেশি, পাশাপাশি বিদেশফেরত শ্রমিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। কিন্তু জেলায় এখনো এইচআইভি পরীক্ষা, কাউন্সেলিং ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে আক্রান্তদের একটি অংশ শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক কুসংস্কার, নৈতিক অবক্ষয়, অনিরাপদ যৌন আচরণ, মাদকাসক্তি এবং সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে হেয় করার প্রবণতা রোগ নিয়ন্ত্রণের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে অনুমিত এইচআইভি সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৩১৩ জন। সংক্রমণের হার ০.০১ শতাংশ। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে চিকিৎসার আওতায় এসেছেন ৮ হাজার ৫৭৫ জন, যা মোট শনাক্ত রোগীর প্রায় ৭৪ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনো একটি বড় অংশ শনাক্তের বাইরে থাকায় ভবিষ্যতে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক কুসংস্কার, সচেতনতার অভাব এবং চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ পুরুষ সমকামী, ১৪ শতাংশ পুরুষ যৌনকর্মী, ১২ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিক, ১১ শতাংশ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, ৬ শতাংশ শিরায় মাদক গ্রহণকারী এবং নারী যৌনকর্মী ও হিজড়া জনগোষ্ঠী ১ শতাংশ করে। এছাড়া ২২ শতাংশ অন্যান্য শ্রেণির মানুষ।
বয়সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের ৬২.৬১ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী আক্রান্ত ২১.০৫ শতাংশ। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ০.৬৯ শতাংশ এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশু ১.৯৬ শতাংশ।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবায়াত বিন করিম বলেন, এইচআইভি এখন আর অনিয়ন্ত্রিত রোগ নয়। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু সামাজিক কুসংস্কার ও সচেতনতার অভাবে অনেকে পরীক্ষা করাতে চান না।
তিনি বলেন, ফেনী সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিদেশফেরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাউন্সেলিং বাড়াতে হবে।
ফেনী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল বলেন, জেলায় এখনো এইচআইভি পরীক্ষার সুযোগ সীমিত। অনেক রোগী গোপনে থেকে যান। কেউ কেউ চট্টগ্রাম বা ঢাকায় গিয়ে পরীক্ষা করেন। ফলে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক নৈতিক অবক্ষয়, অনিরাপদ যৌন আচরণ ও মাদকাসক্তি ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে স্টিগমা বা সামাজিক বৈষম্যের কারণে অনেকে চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন বলেন, কলেজ পর্যায়ে এইচআইভি বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা খুব কম হয়। তরুণদের অনেকেই ভুল তথ্য জানে। ফলে ভয় ও কুসংস্কার তৈরি হয়।
ফেনী ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, সামাজিকভাবে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে সংকোচ কাজ করে। অথচ সচেতনতা ছাড়া প্রতিরোধ সম্ভব নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি প্রয়োজন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ফেনীর শিক্ষার্থী নাহিয়ান কবির বলেন, অনেক তরুণ ইন্টারনেট থেকে ভুল তথ্য পায়। সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগকে তরুণদের জন্য আধুনিক ও বাস্তবভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম চালাতে হবে।
ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী রুবেল হোসেন বলেন, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজে ছোট করে দেখা হয়। এই মানসিকতা পরিবর্তন না হলে অনেকে চিকিৎসা নিতেই ভয় পাবে।
বেসরকারি চাকরিজীবী মিজানুর রহমান বলেন, অনেক অফিস বা কর্মস্থলেও এইচআইভি নিয়ে ভুল ধারণা রয়েছে। আক্রান্ত হলে চাকরি হারানোর ভয়ও অনেকে করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আলাউদ্দিন আরিফ
ঠিকানা: প্রিতম-জামান টাওয়ার, ৩য় তলা, স্যুট নং: ৪০১/এ, ৩৭/২ বীর প্রতীক গাজী দস্তগীর রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন