গণভোটের রায় উপেক্ষিত
সংখ্যা গরিষ্ঠতার জোরে সংবিধান সংশোধেনের পথে এগুচ্ছে বিএনপি
- বিশেষ প্রতিনিধি
- প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
-
দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি সরকারগণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কারেরবদলে প্রচলিত পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে বলেমনে করে বাংলাদেশ জামায়াতেইসলামী। সে জন্য এইপ্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়েসরকারকে অবস্থান বদলাতে চাপ দিতে সংসদেরপাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন জোরদার করতে চায় দলটি।জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এতথ্য জানা গেছে।
জামায়াতেরনেতারা মনে করেন, সংবিধান ‘সংশোধন’ ও ‘সংস্কার’—দুটিবিষয়কে এক করে দেখারসুযোগ নেই। তাঁদের মতে, গণভোটে জনগণের যে অনুমোদন নেওয়াহয়েছে, তা শুধু বিদ্যমানসংবিধানের কিছু ধারা সংশোধনেরজন্য নয়; বরং জুলাইসনদে থাকা সাংবিধানিক সংস্কারেরপ্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য।
নেতাদেরআশঙ্কা, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতারভিত্তিতে সরকার নিজেদের মতো করে সংবিধানসংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারে। বিশেষকমিটিতে অংশ নিলে সরকারেরএই প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়া হবে—এমন যুক্তিতেইতাঁরা কমিটিতে প্রতিনিধি দেননি। এ অবস্থায় সংসদেরপাশাপাশি রাজপথে কর্মসূচি জোরদার করে সরকারকে অবস্থানবদলাতে চাপে রাখতে চানতাঁরা।
তবেএসব কর্মসূচিকে আপাতত সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবে দেখছেন না জামায়াতের নেতারা।তাঁদের ভাষ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাইসনদ কার্যকর করা এবং জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট দাবিতে জনমত গড়ে তুলতেইতাঁরা মাঠে আছেন। এসবদাবি উপেক্ষা করা হলে কর্মসূচিআরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেনতাঁরা।
জামায়াতেরসহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ৬ অক্টোবর প্রথমআলোকে বলেন, সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতারজোরে কমিটি গঠন করে নিজেদেরমতো করে সংবিধান সংশোধনেরচেষ্টা করছে। সেটি যাতে তারাকরতে না পারে, সেজন্য মাঠের আন্দোলন জোরদার করতে চায় জামায়াত।
গণভোটেররায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন করে গণভোটআয়োজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত। গত ২৮ সেপ্টেম্বরএক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নতুন করে গণভোটআয়োজন প্রসঙ্গে আগের গণভোটের রায়েরসাংবিধানিক অবস্থান, একই বা সংশ্লিষ্টবিষয়ে নতুন গণভোটের প্রয়োজনীয়তাএবং এর আইনগত ভিত্তিনিয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
৬অক্টোবর হামিদুর রহমান আযাদ প্রথম আলোকেবলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নাকরে নতুন করে গণভোটআয়োজনের কথা বলছে। এটিজাতির সঙ্গে প্রতারণা। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতারজোরে সরকার সংবিধান সংশোধন করতে পারে, তবেসেটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
গত১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনগণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রায়৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে রাষ্ট্রসংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোটদেন। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছিল, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে জাতীয়সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কারপরিষদ গঠন করা হবে।এই পরিষদ সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্ধারিত সময়েরমধ্যে সংস্কারের কাজ শেষ করবে।সে অনুযায়ী জামায়াত ও জাতীয় নাগরিকপার্টির (এনসিপি) নির্বাচিত সদস্যরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশিসংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। বিএনপিও তাদের জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দ্বিতীয়শপথ নেননি। ফলে পরিষদ গঠিতহয়নি।
গত১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে ১২ সদস্যের ‘সংবিধানসংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই কমিটির সভাপতিকরা হয়েছে। সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য সুপারিশ তৈরিকরে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়া এই কমিটির কাজ।
সেপ্টেম্বরথেকে বিশেষ কমিটি জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিকদল ও জোটগুলোর সঙ্গেমতবিনিময় শুরু করেছে। কমিটিতেবিরোধী দলের পাঁচজন প্রতিনিধিরনাম চাওয়া হলেও জামায়াতসহ বিরোধীদল কোনো প্রতিনিধি দেয়নি।কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিভিন্নরাজনৈতিক দল ও অংশীজনেরসঙ্গে আলোচনা শেষে ডিসেম্বরের মধ্যেপ্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
গণভোটের রায় পাশ কাটানোর অভিযোগ
জামায়াতেরসেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারগত ২০ সেপ্টেম্বর জাতীয়প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনেবলেন, জাতীয় সংসদ সংবিধানসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান।সংবিধানের মৌলিক পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নে জনগণই চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস। গণভোটে জনগণযে প্রক্রিয়া অনুমোদন করেছেন, সেটি পাশ কাটিয়েবিকল্প কোনো প্রক্রিয়াকে জনগণেরম্যান্ডেট হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
জানতেচাইলে মিয়া গোলাম পরওয়ার৬ অক্টোবর প্রথম আলোকে বলেন, সরকার ‘গণবিরোধী, আইনবিরোধী’ পথে সংবিধান সংশোধনেরদিকে যাচ্ছে। জনগণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্যদিতে হলে গণভোটের রায়অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করতে হবে।
মিয়াগোলাম পরওয়ার আরও বলেন, গণভোটেররায়ের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতেইবিরোধী দল লংমার্চসহ বিভিন্নকর্মসূচি পালন করছে। সরকারদাবি না মানলে ভবিষ্যতেমাঠের আন্দোলন আরও জোরদার করাহবে। বিএনপি সরকার জল ঘোলা করেদাবি মেনে নেবে উল্লেখকরে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, অতীতেও তারা এমনটি করেছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলাউদ্দিন
ঠিকানা: ৩৭/২, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন