প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ
বায়রার সাবেক নেতা ফখরুলের প্রতারণায় নিঃস্ব ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের মানবেতর জীবন
পাওনা ৭৩ লাখ টাকা চাইতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি
- বিশেষ প্রতিনিধি
- প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
-
ফখরুল ইসলাম
বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও রাজধানীর বারিধারার হিউম্যান রিসোর্স ডেভলপমেন্টের মালিক ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা ও তাকে নিঃস্ব করে দেওয়ার গুরুতরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগটি করেছেন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার আমিরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো: রাজ্জাক। তিনি প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করেছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি লিখেছেন, তার পাসপোর্ট নম্বর এ-০২৩২২৬০৯ তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়াতে কর্মরত ও অবস্থান করার কারণে দুইজন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে তিনি ওয়াওয়াসান কনস্ট্রাকশন কোম্পানীতে ৫১ জন ও বেনডেন ফ্যাক্টরীতে ৫৫ জন শ্রমিকের চাহিদা পত্র সংগ্রহ করেন। চাহিদাপত্রটি বারিধারার হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টার' (আরএল-৪৫২) এর নামে কুয়ালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে সত্যায়ন করেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর ম্যানেজিং পার্টনার মোঃ ফকরুল ইসলাম তার সঙ্গে সকল শর্ত ভঙ্গ করে অপকৌশল ও প্রতারণার করেন। রাজ্জাক তার নিকট আত্মীয় ও প্রতিবেশী অগ্রহী শ্রমিক যাদের জন্য উক্ত চাহিদাপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু ফখরুল সেগুলো বাদ দিয়ে নিজস্ব লোকজনের ফিঙ্গার প্রিন্ট এবং নথিপত্র মালয়েশিয়ায় পাঠায়। এক্ষেত্রে সে প্রসেসিং ফি এর বিনিময়ে আব্দুর রাজ্জাকের বাছাইকৃত লোকজন প্রেরণে মৌখিক চুক্তি থাকা সত্ত্বেও আমার পক্ষের সর্বমোট ৫২ জনের ফিঙ্গার প্রিন্ট এবং ৫২ জনকে মালয়েশিয়ায় প্রেরণ করে। এখানে উল্লেখা যে সর্বমোট এই ১০৬ জনের চাহিদাপত্র, অনুমোদন এবং মালয়েশিয়ার এজেন্ট কমিশন সহ যাবতীয় খরচ আব্দুর রাজ্জাক এককভাবে বহন ও পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে আব্দুর রাজ্জাক আরো ৯৫ জন শ্রমিকের এপ্রুভাল এবং মালয়েশিয়ার এজেন্ট কমিশনসহ যাবতীয় খরচ এককভাবে বহন ও ইতোমধ্যে পরিশোধ করি। সব মিলিয়ে ফখরুলের কাছে আব্দুর রাজ্জাকের পাওনা দাঁড়ায় ৭৩ লাখ টাকা।
আব্দুর রাজ্জাক আরও লিখেছেন ২০১ জন শ্রমিকের চাহিদা সংগ্রহের সকল খরচ, আমার নিকট আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের প্রদত্ত টাকা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব সম্পাদনের জন্য ফকরুল ইসলামের কাছে অনুরোধ করেন। কিন্তু আমি (রাজ্জাক) অশিক্ষিত হওয়ায় বিভিন্ন ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে সে হিসাব সম্পাদনে বিলম্ব করতে থাকে। অবশেষে প্রতারণামূলক হিসাব এমনকি লেজার বুক, (আমার সাথে সংশ্লিষ্ট হিসাব বই) পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলে। এ ব্যাপারে বার বার তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোন সহযোগিতা না করে বিভিন্ন প্রকার হুমকি এমনকি হত্যার ভয় দেখাতে থাকে।
রাজ্জাক আরও লিখেছেন ফকরুল ইসলাম আমাকে ফোনে আশ্রাব্য গালাগালি ও প্রয়োজনে মাটিতে পিষে ফেলার পর্যন্ত হুমকি দেয় এবং রাজধানীর পল্টন থানায় তার নামে একটি মিথ্যা করে। এমতাবস্থায় উক্ত প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য অনুরোধ করেন আব্দুর রাজ্জাক।
ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার গৃহাতা আমিরপুর গ্রামে। তিনি প্রতারণার শিকার হয়ে বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিচ্ছেন। চতুর ফখরুল তাকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। জীবনের অর্জিত সম্বল ৭৩ লাখ টাকা না পেয়ে তিনি চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
এবিষয়ে ফকরুলের বক্তব্য চানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলাউদ্দিন
ঠিকানা: ৩৭/২, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন