বই পড়া মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
-
বই পড়া শুধু আনন্দের বিষয় নয়। নিয়মিত বই পড়লে আমাদের মস্তিষ্কও ভালো থাকে। মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে। মানসিক চাপও কমতে পারে। এমনকি বড় হয়ে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করতে পারে বই পড়ার অভ্যাস।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মতে, ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বারবারা সাহাকিয়ান বলেন, বই পড়লে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একই সঙ্গে চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ে এবং মনও ভালো থাকে। তবে বই পড়া শুরু করার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। যে কোনো বয়সেই এই অভ্যাস শুরু করা যায়।
শিশুদের জন্য বই পড়ার আরও অনেক উপকার রয়েছে। বই পড়লে নতুন নতুন শব্দ শেখা যায়। বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানা যায়। কল্পনাশক্তিও বাড়ে। কোনো গল্প মন দিয়ে পড়লে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতাও বাড়তে পারে।
তবে অনেক শিশুর মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ কমছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিশু ও কিশোরদের বই পড়ার হার কমে গেছে।
২০২৫ সালের পিআইএসএ প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, অবসর সময়ে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া এবং ডিজিটাল ডিভাইসে বেশি সময় কাটানো এর অন্যতম কারণ।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল লিটারেসি ট্রাস্টের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির ৮ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু ও কিশোরদের মাত্র ৩৬ শতাংশ অবসর সময়ে বই পড়তে পছন্দ করে। ২০১৬ সালে এই হার ছিল প্রায় ৫৯ শতাংশ।
গবেষকেরা বলছেন, শিশুদের বই পড়তে বাধ্য না করে তাদের পছন্দের বই খুঁজে দিতে হবে। কেউ খেলাধুলা পছন্দ করলে খেলাধুলার গল্প পড়তে পারে। কেউ কার্টুন বা কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠান পছন্দ করলে সেই বিষয় নিয়ে লেখা বই দিয়ে পড়ার অভ্যাস শুরু করা যেতে পারে।
কমিকস ও গ্রাফিক নভেলও শিশুদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারে। কারণ অনেক শিশুর কাছে এগুলো বড় উপন্যাসের চেয়ে সহজ ও মজার মনে হতে পারে।
বই পড়ার উপকার শুধু শিশুদের জন্য নয়। বড়দের জন্যও বই পড়া উপকারী। নিয়মিত বই পড়লে মানসিক চাপ কমতে পারে এবং মন শান্ত হতে পারে।
বয়স্কদের জন্যও বই পড়া গুরুত্বপূর্ণ। মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখে এমন কাজ স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার গতি ধীর করতে পারে। ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও কমতে পারে।
বন্ধুদের সঙ্গে মিলে বই পড়লেও বাড়তি উপকার পাওয়া যায়। যেমন, কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি বই পড়া এবং পরে সেই বই নিয়ে আলোচনা করা। এতে একদিকে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ে, অন্যদিকে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগও ভালো হয়।
গবেষকেরা মনে করেন, স্কুল, গ্রন্থাগার ও বিভিন্ন পাঠচক্রের মাধ্যমে শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে। ছোটবেলায় তৈরি হওয়া এই অভ্যাস ভবিষ্যতেও মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
তাই বই পড়া শুধু পরীক্ষায় ভালো করার জন্য নয়। মস্তিষ্ককে ভালো রাখা, নতুন কিছু শেখা এবং আনন্দের জন্যও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলাউদ্দিন
ঠিকানা: ৩৭/২, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
স্বত্ব © সিসিএনবিজি মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন